মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১

যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা মুনাওয়ারা সফর নাজাতের উসিলা
- মুফতি মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দীন
প্রকাশ: সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ৯:১৮ এএম  Count : 1414


পবিত্র ক্বোরআন ও হাদীসের আলোকে যিয়ারতে মদীনার রয়েছে অশেষ ফযীলত। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, ঈমানদার মুসলমানের প্রাণপ্রিয় সেই মদীনা মুনাওয়ারার যিয়ারতকে কতিপয় জ্ঞানপাপী নাজায়েয, শিরক ইত্যাদি ।ফতোয়াবাজি করে সরলমনা মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরা সহীহ বুখারী শরীফের একটি হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষকে বঞ্চিত করতে চায়। তারা যে হাদীস দ্বারা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা শরীফে যেতে নিষেধ করে সেই হাদীসেই মূলত মদীনা শরীফ যাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। আমরা প্রথমে যিয়ারতে মদীনা মুনাওয়ারার ফযীলতের বর্ণনা শুরু করব। 

عن ابن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من جاءنى زاءر لاتحمله حاجة الازيارتى كان حقا على ان اكون له شفيعا يوم القيامة-

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার যিয়ারতের উদ্দেশে আসে এবং তার সফরে আমার যিয়ারত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকেনা, ক্বিয়ামত দিবসে তার জন্য শাফা’আতকারী হওয়া আমার হক্ব (দায়িত্ব) হয়ে যায়। (দারে কুতনী, মাজমা’উয যাওয়াইদ, মীযানুল ই’তিদাল) 

এ হাদীস শরীফে বিশেষত দু’টি বিষয় পরিলক্ষিত। প্রথমত যিয়ারতে মদীনা মুনাওয়ারা, আর দ্বিতীয়ত শাফা’য়াতে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম। যিয়ারতে মদীনা মুনাওয়ারা আশিক্বে রসূলের জন্য অতৃপ্ত বাসনা, একজন ঈমানদারের জন্য বিশাল নি’মাত, প্রাণাধিক প্রিয় রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে সরাসরি হাযির হয়ে নিজের মনের গভীরে লালিত দীর্ঘদিনের কথাবার্তা - আলাপ - আকুতি পেশ করার সুবর্ণ সুযোগ তো এটাই। উম্মতের কান্ডারী উভয়জগতের মুক্তির দিশারীও অপেক্ষায় থাকেন দুঃখী উম্মতের আকুতি- মিনতি শুনে তাদেরকে মুক্তির ঠিকানায় পৌঁছাতে। জীবদ্দশায় সাহাবা -ই কেরাম বিপদ - মুসিবতে নবী করীমের দরবারে গিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান নিয়ে যেতেন। তদ্রুপ ইহজগত থেকে আড়াল হওয়ার পরও সমানভাবে বিপদগ্রস্ত উম্মতের সাহায্যে নবী করীমের রয়েছে সক্রিয় ক্ষমতা ও ভূমিকা। এ নিয়ে হাজারো দৃষ্টান্ত রয়েছে। 

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, রসূলে পাক সাল্লল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন –
 عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَمَسْجِدِ الْأَقْصَى-
অনুবাদ: তিন মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদের দিকে (অধিক সাওয়াবের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না; মসজিদে হারাম (কা’বা শরীফ), মসজিদে রসূল (মদীনা শরীফের মসজিদে নবভী শরীফ) ও মসজিদে আক্বসা (বায়তুল মুক্বাদ্দাস)। (বুখারী শরীফ, কিতাবুল জুমু’আহ, মুসলিম শরীফ: কিতাবুল হজ্জ, নাসাঈ শরীফ : কিতাবুল মাসাজিদ)

আমরা জানি, মসজিদে হারাম তথা কা’বা ঘরের মর্যাদা বেশি হওয়ার কারণ হলো, সেটি মহান আল্লাহর ঘর এবং মুসলিম মিল্লাতের ক্বেবলা আর মসজিদে আক্বসার ফযীলত এই কারণে যে, ওটা এক সময় মুসলমানদের ক্বিবলা ছিলো। কিন্তু মসজিদে নবভীর এত ফযীলত কেন? সেটাতো কোন কালে কোন মুসলমানের ক্বেবলা ছিলনা। এর উত্তর একটাই - এই মসজিদের সাথে সম্পর্ক রহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর। নবীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে যদি মসজিদে নবভীর মূল্য এত বেড়ে যায়, যেখানে অধিক সাওয়াবের উদ্দেশ্যে সফর করার কথা হাদীস শরীফে এসেছে, সেই নূর নবীর পবিত্র নূরানী দেহ মুবারক যে রওযা পাকের সাথে লেগে আছে, সেই রওযা মুবারকের মূল্য কত বেশি, তা বিবেক থাকলে বুঝাতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। অধিকন্তু রওজা পাকের ফযীলতের পক্ষে অনেক দলীলতো রয়েছেই। 

দ্বিতীয়ত উল্লিখিত হাদীস শরীফ দ্বারা যিয়ারতের উদ্দেশে মদীনা শরীফ যাওয়া নিষিদ্ধ ফতোয়া দেয়া মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ হাদীসের বিষয়বস্তুই হলো নামায; যিয়ারতের প্রসঙ্গ সেখানে নেই। যেমন সহীহ বুখারী শরীফে ওই হাদীসের শিরোনামই হল, ‘বাবু ফাদ্বলিস সালাতি ফী মাসজিদি মাক্কা ওয়াল মাদীনা? (মক্কা ও মদীনা শরীফের মসজিদে নামাযের ফযীলত)। সুতরাং নামায আর যিয়ারত  এক বিষয় নয়। তাই নামাযের ফযীলতের হাদীস দ্বারা যিযারতকে নিষিদ্ধ করার কী যুক্তি থাকতে পারে? আর শুধু নামাযের ফযীলতের উদ্দেশ্যে হাজ্বী সাহেবরা যদি মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ যায়, তাহলে নিশ্চয় তাদেরকে বোকা বলতে হবে। কারণ মসজিদে নবভীর চাইতে অনেক বেশি সাওয়াব পাওয়া যায় মসজিদে হারাম শরীফে। অতএব অধিক সাওয়াবের স্থান রেখে অন্য স্থানে তারা যাবে কোন দুঃখে। তাই নিঃসন্দেহে বলতে হবে বেশি সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে মক্কা মুর্কারামা হতে কেউ মদীনা মুনাওয়ারা সফর করেনা, বরং হাবীবে কিবরিয়া মাহবূবে খোদার সান্নিধ্যে তার খাস দয়া- করুণা ও মেহেরবাণী লাভের উদ্দেশ্যেই সকলে মদীনা শরীফ সফর করে থাকে। পাশাপাশি মসজিদে নবভীতে নামাজের সওয়াব ও লাভ করে । 

আল্লামা ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাফসীরে ইবনে কাসীরে উদ্ধৃত করেন- উতবা নামক জনৈক মুহাদ্দিস বর্ণনা করেন, আমি একদা নবী-ই আকরামের রওয়া পাকের কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন লোক এসে বললেন- আস্সালামু আলায়কা ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি শুনেছি আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন-
وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا-
অর্থাৎ: আর যদি কখনো তারা নিজেদের আত্মার প্রতি যুলুম করে (অপরাধ বা গুনাহ দ্বারা আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতা প্রদর্শন করে) তখন (হে মাহবুব! তারা) আপনার দরবারে হাযির হয়, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর রসূল তাদের পক্ষে সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই (তারা) আল্লাহকে অত্যন্ত তাওবা কবূল কারী, দয়ালু হিসেবে পাবে। (সূরা নিসা : আয়াত -৬৪)
এই আয়াত তিলাওয়াত করে ওই আগস্তুক নবী-ই আকরামকে সম্মোধন করে বললেন, ইয়া রসূলল্লাহ! আমি আপনাকে শাফা’আতকারী মেনে আমার গুনাহ প্রার্থনাকারী হিসেবে আপনার দরবারে হাযির হয়েছি। অতঃপর আরবি ভাষায় একটি কবিতা আবৃত্তি করে চলে গেলেন।

হাদিসের বর্ণনাকারী বলেন- এক পর্যায়ে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম আর ¯সপ্নে দেখলাম নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে বললেন, হে উতবা! তুমি ওই লোকটাকে ডেকে নিয়ে সুসংবাদ দিয়ে দাও, মহান আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। 
(সূত্র : বায়হাক্বী : শু’আবুল ঈমান : ৩য় খন্ড ৪৯৫ পৃষ্ঠা, ইবনে কুদামা : আল মুগনী : ৩য় খন্ড ২৯৮ পৃষ্ঠা)
হযরত কা’বুল আহবার রদ্বিয়াল্লাহু ইসলাম গ্রহণের পর হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে সম্বোধন করে বললেন,
هل لك ان تسير معى الى المدينة فنزور قبر النبى صلى الله عليه وسلم وتتمتع بزيارته فقلت نعم ياامير المومنين- 
অর্থাৎ: আপনি কি আমার সাথে নবী-ই আকরামের রওযা মুবারক যিয়ারতের জন্য যাবেন? এবং যিয়ারতের মাধ্যমে ফয়েয-বরকত হাসিল করবেন? তিনি জবাব দিলেন, জ্বী হ্যাঁ, হে আমীরুল মুমিনীন!

অতঃপর তারা উভয়েই মদীনা মুনায়রায় তাশরীফ নিয়ে গেলেন এবং প্রথমে হুযূর আকরাম-ই সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র দরবারে সালাম পেশ করলেন, অতঃপর হযরত আবূ বকর সিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র কবর শরীফের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সালাম পেশ করলেন। পরিশেষে দু’রাক’আত নামায আদায় করলেন। (সূত্র : ফাতহুশ শাম : ১ম খন্ড ২৪৪ পৃষ্ঠা কৃত ইমাম ওয়াক্বেদী।)

মদীনায়ে তৈয়্যবা কেবল উম্মতে মুহাম্মদীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে, এমনটি নয়; বরং নবীজি মদীনা শরীফকে অধিক পরিমাণে ভালবাসতেন, আর মহান আল্লাহর দরবারে দো’য়া করতেন-. 
اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة او اشد-
(হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে মদীনা শরীফের ভালবাসা দান করুন যেমন আমরা ভালবাসি মক্কা শরীফকে অথবা এর চাইতেও বেশি) নবী করীম আরো এরশাদ করেন-
من مات بالمدينة كنت له شفيعا يوم القيامة-
(যে ব্যক্তি মদীনা শরীফে মৃত্যু বরণ করে, আমি ক্বিয়ামতের দিন তার সুপারিশকারী হব)। ওলামা-ই কেরামের অভিমত হচ্ছে রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রথমে মদীনাবাসীদের জন্য এর পরে মক্কাবাসীদের জন্য এরপর তায়েফবাসীদের জন্য সুপারিশ করবেন। (জাযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবুব) 
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
من استطاع ان يموت بالمدينة فليمت فمن مات بالمدينة كنت له شفيعا وشهيدا-
অর্থাৎ: যে ব্যক্তি মদীনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করতে পারে সে যেন মদীনা শরীফে মৃত্যুবরণ করে। কারণ যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করবে, আমি তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দেব এবং সুপারিশকারী হব। 

ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘মুআত্তা-ই মালিক’ -এ একটি বর্ণনা এনেছেন- হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কি মক্কাকে মদীনা হতে উত্তম মনে কর? তিনি উত্তরে বললেন- ‘মক্কা শরীফ আল্লাহর হেরম এবং নিরাপত্তার স্থান এবং সেখানে আল্লাহর ঘর অবস্থিত। হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন- আমি আল্লাহর হেরেম এবং আল্লাহর ঘর সম্পর্কে কিছু বলতে চাইনা। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন-তুমি কি মক্কাকে মদীনার চাইতে শ্রেষ্ঠ মনে কর? তিনি পুনর্বার জবাবে বললেন, ‘মক্কা শরীফ আল্লাহর হেরেম এবং আল্লাহর ঘর বিদ্যমান। হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন- আমি মহান আল্লাহর হেরেম এবং তার ঘর সম্পর্কে কিছু বলছিনা। এভাবে কয়েকবার বলে তিনি চলে গেলেন। হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এই কথোপকথন থেকে বুঝা গেল- পবিত্র কা’বাঘর ও হেরেম শরীফ বাদ দিলে সমগ্র মক্কা থেকে মদীনা শরীফই শ্রেষ্ঠ। মদীনা মুনাওয়ারার এই ব্যাপক মর্যাদার মূল কারণ হল, সেখানে দু’জাহানের সরদর কামলীওয়ালা নবীপাকের পবিত্র রওযা শরীফ। যিয়ারতের ফজীলত বিষয়ক কতিপয় হাদীস শরীফ উদ্ধৃত করা হল :
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী পাক সাল্লল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-
من زار قبرى وجبت له شفاعتى-
অর্থ “যে আমার রওযা মুবারক যিয়ারত করে, তার জন্য সুপারিশ করা আমার উপর ওয়াজিব হয়ে যায়” । (দারে কুতনী, নাওয়াদেরুল উসূল, বায়হাক্বী, মীযানুল ই’তিদাল)
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত - নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-
من زار بالمدينة محتسبا كنت له شهيدا وشفيعا يوم القيامة -
অর্থাৎ: যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে মদীনা মুনাওয়ারায় হাজির হয়ে আমার যিয়ারত করবে, আমি ক্বিয়ামত দিবসে তার সাক্ষী হব এবং তার জন্য সুপারিশকারী হব। (সূত্র : বায়হাক্বী, শিফাউস্ সিক্বাম, তালখীসুল হাবীব)

হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী-ই পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াাসাল্লামকে বলতে শুনেছেন -
من زار قبرى او قال من زارنى كنت له شفيعا او شهيدا ومن مات فى احد الحرمين بعثه الله من الامنين يوم القيامة-
অর্থাৎ: যে আমার রওযা পাক যিয়ারত করে অথবা বললেন আমার যিয়ারত করে, আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব এবং যে হারামাঈনে শরীফাঈনের যে কোন একটিতে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্বিয়ামত দিবসে নিরাপদে উঠাবেন। (সূত্র : মুসনাদে ফেরদাউস, দারে কুতনী, বায়হাক্বী।)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- 
 من حج فزار قبرى بعد و فاتى فكانما زارنى فى حياتى-
অর্থাৎ: যে হজ্ব করল আর আমার ওফাতের পর আমার রওযা পাক যিয়ারত করল, সে যেন জীবদ্দশায় আমার যিয়ারত করল। (দারে কুতনী, তাবরানী, মিশকাতুল মাসাবীহ)

নবীজী এরশাদ করেন- 
 من حج البيت ولم يزرنى فقد جفانى- 
অর্থাৎ: যে বায়তুল্লাহ’র হজ্ব করল কিন্তু আমার যিয়ারত করলনা, সে আমাকে কষ্ট দিল’। 
মদীনা শরীফ এবং রওযা পাক যিয়ারতের অশেষ ফযীলতের কতিপয় হাদিসে যিয়ারত না করার কঠিন পরিণতির বর্ণনাও হাদিস শরীফে দেখলাম। সুতরাং এখানেই প্রমাণিত হয়ে যায়, কে নবীজীর আশিক্ব-প্রেমিক, আর কার অন্তরে নবীবিদ্বেষ। 

যুগে যুগে হক্ব-বাতিলের সংঘাত ছিল, এখনও রয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, বিবেককে কাজে লাগিয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করা। ইবলিস শয়তান এবং তার প্রেতাতœারা যতই বিভ্রান্ত করতে চাইবে সত্যিকার ঈমানদার ততবেশি সতর্ক হবে। তেমনি বর্তমান বিশ্বের বাতিলপন্থীরা মদীনা শরীফ যিয়ারত তাতবেশি উদ্দেশ্যে যাওয়াকে যতই বিদ’আত, শিরক বলুকনা কেন, প্রেমিকদের জোয়ার ঠেকানো কারো পক্ষে সম্ভব হবে না। আ’লা হযরতের ভাষায় শুনুন প্রেমিকমনের অভিব্যক্তি -

জা-ন ও দিল হো-শ ও খিরদ সব তো-মাদী-নে পৌঁহছে-
তোম নেহী- চলতে-রেযা-সা-রা-তো সা-মা-নে গেয়া।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক :---
"মা নীড়" ১৩২/৩ আহমদবাগ, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪
ফোন : +৮৮-০২-৭২৭৫১০৭, মোবাইল : ০১৭৩৯-৩৬০৮৬৩, ই-মেইল : [email protected]